আকস্মিকভাবে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দিয়ে দেশের পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। এই পরিস্থিতিতে তার কী করনীয়— সে বিষয়ে নিজের রাজনৈতিক দল পিপলস পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ইউন সুক ইয়োল বলেন, “সম্প্রতি যা ঘটে গেল, সেজন্য আমি খুবই দুঃখিত এবং সবার কাছে অন্তর থেকে ক্ষমা চাইছি।”
“রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য আমার দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা বিনা আপত্তিতে মেনে নেবো। আমি আর এই পদে থাকব কি না— সে ব্যাপারেও দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত থাকবে।”
জাতির উদ্দেশে দেয়া এক টেলিভিশন ভাষণে সামরিক আইন জারির ঘোষণার বিষয়ে ইউন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেকটা মরিয়া হয়ে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু এটা জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তাদের অসুবিধায় ফেলেছিল। এ জন্য আমি খুবই দুঃখিত এবং আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’
প্রেসিডেন্ট উইন আরও বলেন, এই ঘোষণার ফলে যেকোনো আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির দায় আমি এড়াতে পারি না। আমি আপনাদের স্পষ্টভাবে বলছি, আরেকবার সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেয়া হবে না।’
দক্ষিণ কোরিয়ায় গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎই সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ইউন। এ কারণে দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়। প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন আইনপ্রণেতারা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষোভের মুখে সামরিক আইন জারির ঘোষণা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট।
সেই থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা চলছে। প্রেসিডেন্ট ইউনকে অভিশংসনের তৎপরতা শুরু করেছে বিরোধী জোট। পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত ইউনের মেয়াদ পূর্ণ হতে আরও দুই বছর বাকি।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গতকালের জরুরি বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ইউনের দল পিপল পাওয়ার পার্টিও (পিপিপি) তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তার ক্ষমতাসীন দল পিপল পাওয়ার পার্টির প্রধান হান ডং-হুন সাংবাদিকদের বলেছেন, ইউনের পক্ষে তার স্বাভাবিক দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়। তার প্রাথমিক পদত্যাগ অনিবার্য।
সামরিক আইন জারির পর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ইউন নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলেই ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার কাজ তিনি তার শাসক দলের কাছে অর্পণ করবেন। এ ছাড়া অভিশংসনের বিষয়েও কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
আজ শনিবার সংসদে অভিশংসন প্রস্তাব তুলবে বিরোধীদল। পাস করার জন্য ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।